সাদিয়া’র দাপন সম্পন্ন-এতিম হলো একমাত্র শিশু সন্তান,
যৌতুকের জন্য নির্মমভাবে পিটিয়ে ও মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগে আটক ২
স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লা বুড়িচং যৌতুকের জন্য পুত্রবধু হত্যাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা শ্বশুরবাড়ি লোকজন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানায়,
দাদা মরার খানা (লের) কেন খাইতে আইলি, দাওয়াত ঠিকমত দেয় নাই। কি লের খাইতে আইছোস, এটি না খাইয়া বিষ খাইলি না কেন। শ্বশুর বাড়ীতে নিয়া লই তখন বুঝবি। এসব অকথ্য ভাষায় গালমন্দ, কিল,ঘুষি মারতে মারতে সবার সামনে থেকে নিহত সাদিয়াকে জোর করে অনুষ্ঠান স্থল থেকে সিএনজিতে উঠায় দেবর রাব্বী৷
৬ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব অভিযোগের তথ্য দেন নিহতের পরিবার।
কুমিল্লা বুড়িচং থানা বাকশিমুল ইউনিয়ন উত্তর কোদালিয়া গ্রামের রেজাউল হোসেনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার কে তার দেবর ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিলে যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক বিষ পানে হত্যা করেছে বলে এমন অভিযোগ নিহতের পরিবারের। এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় স্বামীর ছোট ভাই রাব্বিকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলা নং-৩৬৪।
জানা যায়, গত ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর ১১ টায় নিহত সাদিয়া দাদার কুলখানি অনুষ্ঠান
কুমিল্লা বুড়িচং থানা বাকশিমুল ইউনিয়ন উত্তর কোদালিয়া গ্রামে আসে তারপরে দুপুর ৩ টা সময় খাওয়ার জন্য টেবিলে বসলে তার দেবর রাব্বী অনুষ্ঠান স্থলে এসেই এমন কর্মকান্ড ঘটায়। তারপর বিকেল ৫ টায় সাদিয়ার মাকে জানায় তার মেয়ে নাকি বিষপান করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। রাত ৯টায় সাদিয়াকে ঢাকায় নেয়ার পথে চান্দিনায় মারা গেলে দেবর রাব্বি, শ্বশুর মোস্তফা পালিয়ে যায়।
নিহত সাদিয়া (২২) কুমিল্লা বুড়িচং ২নং বাকশিমুল ইউনিয়ন উত্তর কোদালিয়া গ্রামের রেজাউলের মেয়ে।
অভিযুক্তরা হলেন, (দেবর) স্বামীর ছোট ভাই রাব্বি হোসেন (২৪) বুড়িচং থানার ২নং বাকশিমুল ইউনিয়ন ছোট হরিপুর এলাকার মোস্তফার ছেলে। শ্বাশুড়ি রহিমা খাতুন (৫০),স্বামীর বোন আমেনা খাতুন (২৬), সোনালী আক্তার (২০), স্বামী হাবিবুর রহমান (২৮)। শ্বশুর মোস্তফা (৬০)।
নিহতের মা রুবি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ২ বছর আগে আমার মেয়ে সাদিয়ার সাথে হাবিবের বিয়ে হয়। তাদের ৮ মাসের একটি পুএ সন্তান আছে। বিবাহের কয়েকমাস পরে হাবিব প্রবাসে চলে যায়। তারপরে আমার মেয়ের কাছে টাকা যৌতুক চায়। আমার মেয়েকে মোাবাইল ফোনে মানসিক যন্ত্রণা ও অত্যাচর করতে থাকে এবং টাকার জন্য চাপ দেয়। শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। দাদার কুলখানি অনুষ্ঠানে জের ধরে ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে সাদিয়াকে শারীরিক নির্যাতন করে জোরপূর্বক বিষপানে প্রলুব্ধ করে এবং তাকে বিষ পান করানো হয়। পরে ৫ ডিসেম্বর বিকেলে আমার মেয়েকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে লোক মারফত ফোনে আমাকে বলে আপনার মেয়ে বিষ পান করেছে। এরপরে রাত ৯টায় তারা আমার মেয়েকে কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে চান্দিনায় এ্যাম্বুলেন্সে রেখে পালিয়ে যায়। পরে রাতে আমি কোন উপায় না পেয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা দায়ের করি। আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এভাবে যেন আমার মত আর কোন মা-বাবার কোল খালি না হয়, এইজন্য আমি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি, জড়িতদেরকে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবিও জানান নিহতের মা।
কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ পাবলিক প্রসিকিউটর বদিউল আলম সুজন বলেন,৩০৬ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, তাহলে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সাহায্য করবে বা প্ররোচনা দান করবে, সে ব্যক্তিকে ১০ বছর পর্যন্ত যে কোনও মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জিয়া বলেন, এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযুক্ত স্বামী,দেবর সহ ৬জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।২ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। নিহত সাদিয়া আক্তারের ময়ণা তদন্তের রিপোর্ট আসার পরে এর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।যৌতুকের বলি এক সন্তানের জননী সাদিয়ার দাপন সম্পন্ন, আটক২